• বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এড. আমজাদ হোসেন কখনও অর্থবিত্তের জন্য রাজনীতি করেননি-এড.ফরিদুল ইসলাম এড.আমজাদ হোসেনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী সফলের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন পূর্ব বড় ভেওলা মাহমুদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানায় সাহায্যের আবেদন চকরিয়ায় দখলবাজরা কেটে নিল সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ মানবিক সাহায্যের আবেদন জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু কে বিশাল সংবর্ধনা আধুনিক ও বাসযোগ্য চকরিয়া পৌরসভা রূপান্তরে কাজ করবো-মেয়র প্রার্থী এড. ফয়সাল চকরিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চকরিয়া বিএমচর ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর, চেয়ারম্যানসহ আহত ৪ চকরিয়া কোনাখালীতে পৈতৃক ভিটা জবর দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা

পঞ্চগড়ে সুবিধা বঞ্চিত নারীদের ঋন বিতরনে অনিয়ম,সমিতির অর্থ ভাগ বাটোয়ারা

আল মাসুদ , পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি / ৮৩ সময় দেখুন
আপডেট : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০

পঞ্চগড়ে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নেওয়া সরকারি একটি প্রকল্পের ঋণের টাকা বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দারিদ্র্য সীমার মধ্যে থাকা সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মাঝে ওই ঋণের টাকা বিতরণের কথা থাকলেও তাদের খুব কম সংখ্যকই তা পেয়েছেন। ঋণ পেয়েছেন আমলাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্যাম সুন্দর রায়ের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী।
তেলিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।
কালেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফুল্য কুমার রায়ের স্ত্রী পুষ্প রানী এরকম অনেক বিত্তবানরা। এই ঋণের বিষয়ে ঐ এলাকার অধিকাংশ সুবিধাবঞ্চিত নারীরা কিছুই জানেননা।
অভিযোগ রয়েছে, উপকার ভোগীরা
সমিতির নামে ২৫ শত,কারো বেশি  টাকা সঞ্চয় জমা করলে মোট ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সমিতি থেকে লোপাট হয়ে যায়। সেই টাকার কোন হিসাব দিতে পারছেনা সমিতির সভাপতি মঞ্জুয়ারা বেগম। পরে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা  মুক্তারানী ও মঞ্জুয়ারাকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জমির বর্গাচাষ বাবদ কেটে দেওয়া হলেও দেড় বছরেও সমিতি লাভের কোন মুখ দেখেনি। সমিতির অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ করেছেন সদস্যরা। বার্ষিক অডিট রিপোর্টে ও টাকা হরিলুটের বিষয়টি উল্লেখ করেন নাই অডিট কর্মকর্তা।
নারী উন্নয়ন সমিতির কথা উল্লেখ থাকলে ও নারীরা কিছুই জানেন না কাজ করছেন পুরুষরা। ঋণ পেতে খরচ হচ্ছে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের জুলাই  মাসে সমবায় অধিদপ্তর ‘উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন’ নামে এ প্রকল্প হাতে নেয়। দারিদ্র্যসীমার মধ্যে অবস্থানকারী দেশের ৫০টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। তার মধ্যে ছিল পঞ্চগড় সদর ,বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা। পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ও হাফিজাবাদ  ইউনিয়নে এই প্রকল্প এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রকল্পের অধীনে মোট ২০০ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর গাভী পালনের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা  ২৫ জন করে পাওয়ার কথা চার ধাপে। সেই টাকায় প্রত্যেকে দুটি করে গরু কিনবেন। ঋণ প্রাপ্তির পরবর্তী এক বছর শেষে ২ শতাংশ হারে সুদে উপকারভোগীরা কিস্তির মাধ্যমে তা পরিশোধ করবেন।
ইতোমধ্যে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জিয়াবাড়ী সমন্বিত ফসল ব্যবস্থাপনা কৃষক সমবায় সমিতির নাম পরিবর্তন করে জিয়াবাড়ী কর্মমূখী নারী উন্নয়ন সমবায় সমিতির  নামে তালিকাভুক্ত ৭৫ জন উপকারভোগী ঋণ পেয়েছেন। এতে চাকুরীজীবির স্ত্রীসহ বিত্তবানরাও বাদ পড়েনি। যারা আগে থেকে সদস্য তারাই এই ঋণ পেয়েছেন। মাগুড়া ইউনিয়নের সবুজ বাংলা আদর্শ নারী উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ঋণ বিতরণ হলেও তৃতীয় ধাপের উপকারভোগীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঔ সমিতির কিছু সদস্য গাভী না কিনলে চতুর্থ ধাপের ২৫ জনের ঋণ
হাফিজাবাদ এলাকার খালপাড়ায় সমিতি করে উপকার ভোগীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী যেসব নারীর সামান্য জমি আছে (দারিদ্র্যসীমার মধ্যে অবস্থানকারী) যেখানে গরুর গোয়ালঘর ও ঘাস চাষ করা সম্ভব এমন নারীরা এই ঋণ পাবেন। কিন্তু খুব কম সংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত নারীই এই ঋণ পেয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ৫০ জন ঋণ গ্রহীতার ৩০ জনই কালেশ্বর গ্রামের। আর এই প্রকল্পের আওতাধীন গ্রামগুলোর বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই এই ঋণ সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
জানা গেছে,উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মামুন কবীর দীর্ঘ দিন ধরে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় চাকুরী করায় মানুষের সাথে ভাল সম্পর্ক হওয়ায় এদিকে সমবায় কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া সমিতি গুলো ঋণ কার্যক্রম (দাদন ব্যবসা) চালিয়ে যাচ্ছে। কোন সমিতির বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নাই।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মামুন কবীর, ঐ সমিতির সদস্য হলে ঋণ পাওয়ার যোগ্য। সভাপতি সমিতির টাকা আত্মসাত ও টাকার বিনিময়ে ঋন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন নি বলে জানান।
 এ সম্পর্কে জেলা সমবায় কর্মকর্তা হোসেন শহীদ জানান, অনিয়মের বিষয়ে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category