• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এড. আমজাদ হোসেন কখনও অর্থবিত্তের জন্য রাজনীতি করেননি-এড.ফরিদুল ইসলাম এড.আমজাদ হোসেনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী সফলের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন পূর্ব বড় ভেওলা মাহমুদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানায় সাহায্যের আবেদন চকরিয়ায় দখলবাজরা কেটে নিল সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ মানবিক সাহায্যের আবেদন জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু কে বিশাল সংবর্ধনা আধুনিক ও বাসযোগ্য চকরিয়া পৌরসভা রূপান্তরে কাজ করবো-মেয়র প্রার্থী এড. ফয়সাল চকরিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চকরিয়া বিএমচর ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর, চেয়ারম্যানসহ আহত ৪ চকরিয়া কোনাখালীতে পৈতৃক ভিটা জবর দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা

আ’লীগ সভাপতিকে হত্যার মিশন ফাঁস; এ কেমন দৃষ্টতা !

পেকুয়া প্রতিনিধি / ৭৪৩ সময় দেখুন
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

পেকুয়ায় এ কেমন দৃষ্টতা! ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যানকে হত্যার মিশন ফাঁস হয়েছে। শিবিরের এক সময়ের দুর্ধর্ষ ক্যাডার ও যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর অন্যতম দেহরক্ষী, মগনামায় ধানের শীষ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতিকে খুন করার মিশন বাস্তবায়ন করছে। অবিভক্ত মগনামার সাবেক এ চেয়ারম্যানকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছে আগে থেকে। এ দিকে গত ২ দিনের ব্যবধানে ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি খাইরুল এনামকে হত্যার এ তথ্যটি ফাঁস হয়েছে। ওয়াসিমের একজন অনুগত ব্যক্তি এ সংক্রান্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। মগনামা ইউনিয়নের আফজলিয়াপাড়া গ্রামের মৃত বদিউর রহমানের ছেলে আবু ছৈয়দ এ তথ্যটি ফাঁস করে। মুঠোফোনে ধারণকৃত বক্তব্যে আবু ছৈয়দ নামক ওই যুবক জানান, আমি ওয়াসিমের কাছ থেকে বাঁচতে চাই। ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি খাইরুল এনামকে হত্যা করতে আমাকে প্ররোচিত করছে। ৫ লক্ষ টাকা অপার দিয়েছিল ওয়াসিম চেয়ারম্যান। এনাম চেয়ারম্যানকে হত্যা করার জন্য আমাকে বার বার চাপ প্রয়োগ করছিলেন। আমি একজন দিনমজুর। লবণ বহন ও লবণ উৎপাদন করে সংসার চালায়। এতবড় জঘন্য অন্যায় করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি কাউকে খুন করতে পারবনা। আমার দুই সন্তান পেকুয়ায় জিএমসিতে লেখাপড়া করে। এক সন্তান মগনামায় লেখাপড়া করে। আমি দু’মুঠো ভাত খেয়ে স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু বার বার আমাকে ঝুঁকিতে ফেলে দিতে ওই চেয়ারম্যান প্ররোচিত করছে। আমাকে হুমকি দিচ্ছে আমি নাকি এ সব না করলে মগনামায় থাকতে পারবনা। ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে আমাকে পুলিশে দেওয়ারও হুমকি দিচ্ছে। আমি শুধু হুমকির মধ্যে আছি। আমাকে বলছে আমি নাকি তার এ সব না মানলে এখানে থাকা যাবেনা। চেয়ারম্যান বলছেন, এখানে আমি বলি তা করতে হবে। না হলে তুকে কঠিন পরিনতি ভোগ করতে হবে। যুবলীগ কর্মী সালাহ উদ্দিনকে ধরে এনে কাজী বাজারে অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়েছে ওয়াসিম চেয়ারম্যান। একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী আবুল হাসেমকেও ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সোলতান মুহাম্মদ রিপনকে মেরে এক মাস আইসিওতে রাখে। এ ভাবে আমাকেও করা হবে এ হুমকি দিচ্ছে চেয়ারম্যান। আবু ছৈয়দের মুঠোফোনের ওই বক্তব্য সর্বত্রে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে মগনামা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুল এনামের সাথে যোগাযোগ করা হয়। এ ব্যাপারে সাবেক এ চেয়ারম্যান জানান, আমাকে অনেকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ওয়াসিম চেয়ারম্যান এর আগেও আমাকে হত্যা করতে কিলার ঠিক করেছিল। মগনামা ফুলতলা ষ্টেশনে আমাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশ চেষ্টা হয়েছে। সেখানে ওয়াসিমের অনুগত সন্ত্রাসীরা আমাকে লক্ষ্য করে ৫/৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আ’লীগের নেতা-কর্মী ও ফুলতলার ষ্টেশনের লোকজন এসে মানব বলয় তৈরী করে আমার প্রাণ বাচিয়েছেন। ওয়াসিমসহ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় মামলাও করেছি। সোলতান মুহাম্মদ রিপনকে রাস্তায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে চলে যায় ওয়াসিম বাহিনী। দক্ষিন মগনামায় আ’লীগ নেতা আনোয়ার ও শুদ্ধাখালীতে ওয়াসিমের ক্যাডাররা দিন দুপুরে গুলি ছোঁড়ে। মগনামায় আ’লীগ এখন দিশেহারা। কেন এ সব হচ্ছে একজন শিবিরের সাবেক দুর্ধর্ষ ক্যাডার তার খুঁটির জোর কোথায় আমরা জানতে চাই। ধানের শীষ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। এখন আ’লীগ মারছে। তাহলে এ পেকুয়ায় আ’লীগের বিরুদ্ধে এটি কি ষড়যন্ত্র নয়। সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আজিম বাবুল বলেন, আমার বাড়িতে তিনবার গুলি ছোঁড়েছে ওয়াসিম বাহিনী। ফুলতলা ও দক্ষিন মগনামায় দুটি বলয় আছে। এ বলয়ের নেতৃত্ব দেয় ওয়াসিম। এখানে শিবির ও বিএনপির দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা ওয়াসিমের অনুগত ক্যাডার। এরা প্রত্যেকের হাতে অস্ত্র রয়েছে। কৌশল একটাই শুধু আ’লীগকে দুর্বল রাখা। এ আন্ত:বাহিনীর প্রধান সেই শিবির ক্যাডার ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করা না হলে এখানে নেত্রীর আ’লীগ দেউলিয়া থাকবে। মগনামা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর জানান, হত্যার মিশন ওয়াসিম চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে হচ্ছে। আমরা তিনজন আ’লীগ সমর্থিত মেম্বার আছি। এরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাইরে। তিনজন গ্রাম পুলিশ ছিল আ’লীগ সমর্থিত। এ তিনজনের চাকুরী কেড়ে নিয়েছে ওয়াসিম চেয়ারম্যান। শুধু আ’লীগ করে বলে এদের অপরাধ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category