• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এড. আমজাদ হোসেন কখনও অর্থবিত্তের জন্য রাজনীতি করেননি-এড.ফরিদুল ইসলাম এড.আমজাদ হোসেনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী সফলের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন পূর্ব বড় ভেওলা মাহমুদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানায় সাহায্যের আবেদন চকরিয়ায় দখলবাজরা কেটে নিল সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ মানবিক সাহায্যের আবেদন জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু কে বিশাল সংবর্ধনা আধুনিক ও বাসযোগ্য চকরিয়া পৌরসভা রূপান্তরে কাজ করবো-মেয়র প্রার্থী এড. ফয়সাল চকরিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চকরিয়া বিএমচর ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর, চেয়ারম্যানসহ আহত ৪ চকরিয়া কোনাখালীতে পৈতৃক ভিটা জবর দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা

পেকুয়ায় দৃৃৃৃষ্টি ফেরাতে অপহৃত সেই ছাত্রীর ফক্সি বক্তব্যে সংবাদ ছাপাল আসামীরা

পেকুয়া প্রতিনিধি / ১৬৬ সময় দেখুন
আপডেট : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পেকুয়ায় অপহৃত ছাত্রী শফিকাতু নাঈমা রুপার খোঁজ নেই প্রায় তিন মাস। মেধাবী ছাত্রী রুপা (১৪) অপহৃত হয়েছে। ৭৫ দিন আগে মাদ্রাসার ১০ শ্রেণীর সন্তানকে উদ্ধার ও আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ চেয়ে রুপার মা চকরিয়া সিনিয়র সই সময় থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা যায়নি। অপহৃত জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নালিশি অভিযোগ পৌছান। বাদীর ফৌজধারী দরখাস্তটি আমলে নেন বিচারিক আদালত। পেকুয়া থানার ওসিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভিকটিম উদ্ধারসহ তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরনের জন্য আদালত আদেশ দেন। এ দিকে ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী শফিকাতু নাঈমা রুপার জীবন নিয়ে চরম শংকিত হয়েছে তার পরিবার। নিখোঁজের প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও ভিকটিমকে উদ্ধার করা যায়নি। এ ঘটনায় চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হননি। তবে অপহৃত ওই ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা নানান ধরনের ফন্দি ও কৌশল অবলম্বন করছে। পুলিশসহ আইন প্রয়োগকরী সংস্থার দৃষ্টি এড়াতে আসামীরা এবার চরম মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। মেয়েটি অপহরণ হয়েছে। পিতা-মাতা তাকে নিয়ে ব্যাকুল। মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারে সব কিছু থেমে গেছে। স্থবির হয়ে গেছে কর্মচাঞ্চল্যতা। এরই মধ্যে আসামীরা চরম মিথ্যাচারে জড়িয়ে গেছে। সুত্র জানায়, ৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক রুপসীগ্রাম পত্রিকা ও বেশ কিছু অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে পেকুয়ায় বাবার অনৈতিক প্রস্তাবে অতিষ্ট হয়ে আত্মগোপনে মেয়ে শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর পেকুয়ার সচেতন মানুষ উদ্বিগ্ন হয়েছে। সংবাদটি নাকচ করে এর তীব্র নিন্দাসহ প্রতিবাদ জানানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রীর মা আয়েশা ছিদ্দিকা বলেন, সংবাদটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক। সংবাদে আমার স্বামীকে জড়িয়ে যে কুৎসিত মন্তব্য করা হয়েছে তা একজন ভাল মানুষের চরিত্র হনন করা ছাড়া আর কিছু নয়। আয়েশা ছিদ্দিকা জানান, আমার মেয়ে রুপাকে আড়াই মাস আগে অপহরণ করা হয়েছে। আমি কোর্টে মামলা করেছি। আমার মেয়ে কোন অবস্থায় আছে জানিনা। মেয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা আমি নাকচ করছি। আমি চ্যালেঞ্জ করছি এ বক্তব্য আমার মেয়ের নয়। আর তার বক্তব্য হয়ে থাকলেও অপহরণকারীরা তাকে জিম্মী করে বক্তব্য আদায় করে নিয়েছে। মেয়ের ভাল মন্দ আমি মা হিসেবে চিন্তা করব। আমার স্বামী সন্তানের ভাল দিকগুলি চিন্তা করবেন। এখানে সৎমা মেয়েটিকে নিয়ে প্রহসন করছে। আসলে মেয়েটি জিম্মী দশায় আছে। আমার স্বামী একজন শিক্ষিত ও সৎ চরিত্রবান ব্যক্তি। তার মধ্যে উদার ও প্রশংসনীয় গুনাবলী আছে। এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য দুটি প্রতিষ্টান প্রতিষ্টিত করেছে। মসজিদে ইমামতি করে। একজন মানুষের চরিত্র হনন করার এ অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। মেয়ের বাবা শফিকুর রহমান জানান, রুপা অপহরণ হওয়ার পর মামলা হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধারসহ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু আসামীরা এখন দৃষ্টি ফেরাতে আমার সন্তানকে দিয়ে আমার চরিত্র হননের পাঁয়তারা করছে। আসলে এ বক্তব্য ফক্সি। মামলার আসামী কাউছারা বেগম আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। রুপার মা চিরতরে অন্ধত্ব। তার চলাফেরা অক্ষম হওয়ায় কাউছারা বেগমকে আমি বিবাহ করেছি। আমার সব ধন সম্পদ বিনষ্ট করেছি তার পিছনে। পরকীয়ায় আসক্ত হয়েছে। গত তিন মাস আগে সংসার থেকে সটকে পড়ে। রুপার মা নবজাতক প্রসব করে। কঠিন সময়ে কাউছার সংসার থেকে পালিয়ে যায়। আমার মেয়েকেও অপহরণ করে নিয়ে যায়। সে আমাকে তালাক দিয়েছে। তালাকনামা আমি পেয়েছি। শফিকুর রহমানের বোন আমিনা বেগম জানান, ভাইজিকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে নিরীহ ভাইকে নিয়ে পত্র পত্রিকায় চরিত্র হনন করছে। আমরা শুনে বিস্মিত হয়েছি। শফিকুর রহমানের মা হালিমা খাতুন জানান, আমি নাতনির উদ্ধার চাই। আমার ছেলেকে সর্বনাশ করেছে কাউছারা নামে পুত্রবধূ। অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী এনে মেয়েটিকে অপহরণ করেছে। রুপার বড় ভাই ১০ম শ্রেনীর ছাত্র সাদ্দাম হোসেন জানান, আমার পিতার বিরুদ্ধে চরিত্র হননের নীলনকশা হচ্ছে। রুপা আমার আপন বোন। সৎমা তাকে জিম্মী করে রেখেছে। বাবাকে তালাক নোটিশ পাঠিয়েছে। টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছে। এখন দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে ফক্সি বক্তব্য দিয়ে সংবাদ ছাপাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা ৪ টি অভিযোগ ও মামলা করেছি। হাজী বাজারে আমার পিতাকে ছুরিকাঘাত করে। ছোট মা ও তার অনুগত দুবৃর্ত্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাবার টাকা আত্মসাত হওয়ায় মামলা আছে। স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য ৯৮ ধারায় মামলা আছে। আমার বোনের অপহরণ মামলাও করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category