• সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এড. আমজাদ হোসেন কখনও অর্থবিত্তের জন্য রাজনীতি করেননি-এড.ফরিদুল ইসলাম এড.আমজাদ হোসেনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী সফলের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন পূর্ব বড় ভেওলা মাহমুদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানায় সাহায্যের আবেদন চকরিয়ায় দখলবাজরা কেটে নিল সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ মানবিক সাহায্যের আবেদন জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু কে বিশাল সংবর্ধনা আধুনিক ও বাসযোগ্য চকরিয়া পৌরসভা রূপান্তরে কাজ করবো-মেয়র প্রার্থী এড. ফয়সাল চকরিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চকরিয়া বিএমচর ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর, চেয়ারম্যানসহ আহত ৪ চকরিয়া কোনাখালীতে পৈতৃক ভিটা জবর দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা

চকরিয়া পেকুয়ার সিনিয়র সাংবাদিক জহিরুল ইসলামের ফেসবুক টাইম লাইন থেকে “ইয়াছমিন সুলতানার করোনা জয়”

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ১৪৮ সময় দেখুন
আপডেট : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাত তখন ১২ টা ৫২ মিনিট( মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত)। আমার মুঠো ফোনটা বেজে উঠলো। নাম্বারটা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক পরিচিত কর্মকর্তার। ফোন নাম্বার দেখে ভেতরটা একেবারে কেঁপে উঠেছে। কারণ আগেরদিন ইয়াছমিন সুলতানা ফের নমুনা পরীক্ষা দিয়েছিল। ভয়ে ভয়ে রিসিভ করলাম। অপর প্রান্ত থেকে বললেন ‘ ইয়াছমিন সুলতানা’ করোনা নেগেটিভ। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ মহান। খবরটা শোনার অপেক্ষায় রাতের ওই সময়েও আমি জেগে থেকে অপেক্ষা করছিলাম। ইয়াছমিন সুলতানা বাসায় আইসোলেশন রুমে একা ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি সেখানে গিয়ে লাইট অন করতেই তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমি কিছু বলার আগে সে ই বলে উঠলো আবারও পজেটিভ না? বললাম না এবার নেগেটিভ। আলহামদুলিল্লাহ বলে ইয়াছমিন যেটি বলেছেন, ” নামাজ পড়ার সময় আল্লাহকে কতবার বলেছি, আল্লাহ আমার কথা শুনেছে। মানুষের দোয়া বড়, কোনদিন কোন মানুষের ক্ষতি করেছি বলে মনে হয়না। সবশেষে বললো মানুষের দোয়াও লাগে, আমার প্রতি মানুষের দোয়া আছে। বললো দু’ রাকাত নফল নামাজ পড়ে দেব।

এতক্ষন বলছিলাম আমার সহধর্মিণী ইয়াছিন সুলতানার কথা। সে বেসরকারি সংস্থা sarpv’ র একটি প্রকল্পে প্রধান দায়ীত্বে আছে। করোনাকালে sarpv & wfp গত তিন মাস ধরে চকরিয়া পেকুয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের ২২ হাজার উপকার ভোগী পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করে আসছে। এই খাদ্য সহায়তা বিতরণে ইয়াছমিনসহ sarpv”র সকল কর্মকর্তা ও কর্মীরা সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে করোনা ঝুকি আছে জেনেও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ইয়াছমিন এসময় গত আগষ্ট মাসের ২৭/২৮তারিখের দিকে sarpv & wfp ‘ র খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল বলে মনে হয়েছে।

২৯ অাগষ্ট পেকুয়া সদর ইউনিয়নে যখন এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করতে যায় তখন তার ১০২ ডিগ্রি জ্বর। সাথে মাথা ব্যাথা। তারপর থেকে তার ঘ্রাণ শক্তি লোপ পায়। ৫ সেপ্টেম্বর নমুনা পরীক্ষা দিলে ৬ সেপ্টেম্বর পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তারপরের দিন আমি জহিরুল ইসলাম , আমার মেয়ে মেহজাবিন ও আমার ছোট ছেলে অপরূপ ইসলাম নমুনা পরীক্ষা দিয়ে আসি। আমার মেয়ে ও আমার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও ছোট ছেলেটার পজিটিভ আসে। এতে প্রথমে হতাশ হয়ে পড়লেও একেবারেই ভেঙ্গে পড়িনি। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নিলাম মোকাবেলা করতে হবে। ছেলে ও ছেলের মাকে আলাদা রুমে আইসোলেশনে রাখলাম। নিজ ঘরে করোনা ঢুকে পড়া, সহধর্মিণী ও আদরের ছোট ছেলেটার করোনা পজিটিভ, প্রথমদিকে দুশ্চিন্তায় দুইরাত ঘুমোতে পারিনি। তারপর কঠোর নিয়ম মেনে চলা। করোনা পজিটিভ এর বিষয় চাউর হওয়ায় বাসায় নিয়মিত যাতায়তকরীদের অনেকে কেটে পড়েছে। এতে করোনা পজিটিভ ইয়াছমিন অনেকটা প্রয়োজনের তাগিদে রান্নার কাজ থেকে শুরু করে বাসার সব কাজই সাহসিকতার সাথে নিজেই করেছেন।

প্রতিদিন এক টেবিলেই বসে খেয়েছি। তবে খুবই সর্থকভাবে। ভয়ও করিনি, অবহেলাও করিনি। নিয়ম গুলো কঠোরভাবে মেনেছি। ছোট ছেলেটা কিছুই মানতে চায়না, তাকে করোনা পজিটিভের কথা শুনানো হয়নি। বললাম তোমার মায়ের কাছ থেকে যাতে তোমার ভেতরে করোনা ঢুকে না পড়ে সেজন্য তোমাকেও সাবধানে থাকতে হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি সাবধানতার বিকল্প নাই। চিকিৎসকের দেয়া বাবস্থাপত্র মতে ঔষধ সেবন, কঠোরভাবে নিয়মনীতি মেনে চলাতে কোন হেরফের বা অবহেলা হয়নি। ছোট ছেলেটার( বয়স সাডে ৬ বছর) পজিটিভ হলেও কোন সময় তার সামন্যতমও কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়নি। তার জন্য চিকিৎসক শুধুই কয়েকটি ভিটামিন দিয়েছেন। এটিও একটি অভিজ্ঞতা।

যাই হোক ওই সময়ে নেতৃবৃন্দ, পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, ইয়াছমিনের sarpv’ র সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফোন করে খবর নিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন, দোয়া করেছেন। এটি ভাল লেগেছে। অনেক অভিজ্ঞতাও হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ফোন করে খোঁজ খবর নিয়েছেন, কোন সমস্যা আছে কিনা, কোথায় থাকছি, কীভাবে থাকছি, এ্যাম্বুলেন্স লাগবে কিনা, পরিবার কে কে আছেন, কে কী করেন আরো কত কিছু জানতে চেয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে শুধুই ধন্যবাদ নয়, সবার কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছি। করোনা রোগীদের এই সরকার কত গুরুত্ব দিচ্ছেন তা এতোদিন এভাবে বুঝিনি।

পরিবারে সদস্যদের করোনা পজিটিভ আসায় তা পরিস্কার করে বুঝতে পেরেছি । এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পরিশেষে বলবো সকলেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি, সুস্থ ও করোনা মুক্ত থাকি । ধন্যবাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category