• বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এড. আমজাদ হোসেন কখনও অর্থবিত্তের জন্য রাজনীতি করেননি-এড.ফরিদুল ইসলাম এড.আমজাদ হোসেনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী সফলের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন পূর্ব বড় ভেওলা মাহমুদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানায় সাহায্যের আবেদন চকরিয়ায় দখলবাজরা কেটে নিল সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ মানবিক সাহায্যের আবেদন জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু কে বিশাল সংবর্ধনা আধুনিক ও বাসযোগ্য চকরিয়া পৌরসভা রূপান্তরে কাজ করবো-মেয়র প্রার্থী এড. ফয়সাল চকরিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চকরিয়া বিএমচর ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর, চেয়ারম্যানসহ আহত ৪ চকরিয়া কোনাখালীতে পৈতৃক ভিটা জবর দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা

যশোর মনিরামপুরে এক সেনা সদস্য স্বামীর বিরুদ্ধে তালাকের পরও ছোটস্ত্রীর সাথে মেলামেশার অভিযোগ

সুমন চক্রবর্তী,যশোর জেলা প্রতিনিধি / ১০১ সময় দেখুন
আপডেট : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

যশোরের মনিরামপুরে এক সেনা সদস্য স্বামীর বিরুদ্ধে তালাকের পরও ছোটস্ত্রীর সাথে বসবাস করার অভিযোগ প্রথম স্ত্রীর। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় সেনা সদস্য মাসুদুর রহমান রিপন তার প্রথম স্ত্রী সিবা খাতুনের ওপর চালায় অমানুষিক নির্যাতন।

অভিযোগ রয়েছে দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে স্বামী শ্বশুর-শ্বাশুড়ি মিলে বড়স্ত্রী সিবা খাতুনকে কয়েকদফা হত্যাচেষ্টাও চালায়। অবশেষে জীবন বাঁচাতে সিবা খাতুন দুই শিশু সন্তানসহ স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নির্যাতনকারী সেনা সদস্য স্বামী ও তার পরিবারবর্গের নির্যাতনের হাত থেকে দুই শিশু সন্তানসহ তাকে রক্ষা করার ফরিয়াদ জানিয়েছেন বড় স্ত্রী সিবা খাতুন।

জানাযায়, মনিরামপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা খানপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমানের ছেলে মাসুদুর রহমান রিপনের সাথে পাশ্ববর্তি শেখপাড়া খানপুর গ্রামের শেখ শামছুর রহমানের মেয়ে সিবা খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক হয়।

এরই মধ্যে সেনাবাহিনীতে চাকুরি পান মাসুদুর রহমান রিপন। রিপন সৈনিক পদে সেনাবাহিনীতে (সৈনিক নম্বর ১৬১৬৭০৮) যোগদান করেন ২০০৮ সালের ৬ জুলাই। ২০০৯ সালের ২ জুন যশোর পৌরসভা কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন রিপন এবং সিবা। বিয়ের পর তাদের সংসার বেশ ভালই কাটছিল। ২০১২ সালে তাদের প্রথম সন্তান তামিম হোসেনের জন্ম হয়।

২০১৬ সালে দ্বিতীয় ছেলে তাসকিম হোসেনের জন্ম হয়। অভিযোগ রয়েছে ২০১৭ সালের দিকে রিপন মনিরামপুর পৌরশহরে ইয়াসমিন আক্তার নামে এক গৃহবধুর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে সিবা তার স্বামীকে পরকীয়া সুধরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে ইয়াসমিন আক্তার তার স্বামীকে তালাক দিয়ে কাপড় বিক্রেতা মায়ের সংসারে আসেন।
পরবর্তিতে মাসুদুর রহমান রিপন গোপনে ইয়াসমিন আক্তারকে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন ২০১৮ সালের ১৫ মে তারিখে। তাদের বিয়ের ঘটনা জানাজানি হলে সিবা খাতুন মানষিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েন। সিবা খাতুন জানান, অনেক চেষ্টা করেও তিনি স্বামীকে ফেরাতে পারেননি।

ফলে এ নিয়ে সামান্য কথাকাটাকাটি হলেই রিপন তার ওপর শুরু করে অমানুষিক নির্যাতন। সিবার অভিযোগ, শ্বশুর-শ্বাশুড়ির উষ্কানীতেই রিপন তার ওপর সব সময়ই নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এ ছাড়াও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি রিপনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেয়ার জন্য বার বার চাপ প্রয়োগ করে সিবার ওপর।

সিবা শ্বশুর-শ্বাশুড়ির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রিপনের পাশাপাশি তারাও তাকে মারপিট করে। সিবার অভিযোগ কয়েকবার তার স্বামী এবং শ্বশুর-শ্বাশুড়ি মিলে রাতে মারপিটের পর গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা চেষ্টা চালায়। পরবর্তিতে দ্বিতীয় স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর কেশবপুর কাজি অফিস থেকে রিপনকে তালাক দেয়। মাসুদুর রহমান রিপন শান্তিমিশনে আফ্রিকার মালিতে যান ২০১৯ সালের ১৪ মে।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে শান্তি মিশনে যোগদানের পর রিপন আবারো তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ইয়াসমিনের সাথে মোবাইলফোনের মাধ্যমে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। শান্তি মিশন থেকে রিপন দেশে ফেরেন চলতি বছরের ৯ জুলাই। ২০ জুলাই রিপন বাড়িতে এসে আবারও ইয়াসমিনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে।

এমনকি ইয়াসমিনের মায়ের বাড়িতে রিপন প্রায়ই তার সাথে রাত যাপন করে। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে সিবার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন স্বামী এবং শ্বশুর-শ্বাশুড়ি। সিবা জানান, তার শ্বশুরেরও বর্তমান দুইজন স্ত্রী রয়েছে। ফলে শ্বশুর তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তার ছেলের দ্বিতীয় বিয়ে তাকে মেনে নিয়ে সংসার করতে হবে।

এ নিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে সিবার সাথে রিপনের ঝগড়া হয়। সিবার অভিযোগ ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী রিপন এবং শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে তাকে বেদম মারপিটের পর হত্যা চেষ্টা চালায়। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনবাচাতে দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে সিবা পিতার বাড়িতে চলে যান। তবে রিপন ও তার পিতা সিবার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সিবার স্বামী সেনাসদস্য মাসুদুর রহমান রিপন জানান, তার মা-বাবার সাথে খারাপ আচরনের কারনে তিনি বড়স্ত্রীকে শাসন করেন। ফলে সিবা তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে গেছে। স্বামী ও তার পরিবারবর্গের নির্যাতনের হাত থেকে দুই শিশু সন্তানসহ তাকে রক্ষা ফরিয়াদ জানিয়েছেন সিবা খাতুন। এ ব্যাপারে মনিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category