• বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এড. আমজাদ হোসেন কখনও অর্থবিত্তের জন্য রাজনীতি করেননি-এড.ফরিদুল ইসলাম এড.আমজাদ হোসেনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী সফলের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন পূর্ব বড় ভেওলা মাহমুদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানায় সাহায্যের আবেদন চকরিয়ায় দখলবাজরা কেটে নিল সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ মানবিক সাহায্যের আবেদন জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু কে বিশাল সংবর্ধনা আধুনিক ও বাসযোগ্য চকরিয়া পৌরসভা রূপান্তরে কাজ করবো-মেয়র প্রার্থী এড. ফয়সাল চকরিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চকরিয়া বিএমচর ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর, চেয়ারম্যানসহ আহত ৪ চকরিয়া কোনাখালীতে পৈতৃক ভিটা জবর দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা

সিংড়ায় ওয়াকফাকৃত মসজিদের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নিজ নামে রেকর্ড করে আতœসাতের অভিযোগ

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি / ৩৮৪ সময় দেখুন
আপডেট : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিয়াশ গ্রামে মসজিদের কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। মসজিদে দানকৃত চুনকি ফকিরের ওয়াকফ সম্পত্তি নিজ নামে রেকর্ড করে ভোগ দখলের অভিযোগ উঠেছে ঐ চক্রের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সিংড়া উপজেলার জ্যোতব্যস ও অনন্তকুড়ির মধ্য তফসিল ভুমির মালিক ছিলো চুনকি ফকির। এছাড়া খোলাবাড়িয়া, আয়েশ মৌজার স্বত্ব দখলীয় ভূমি ছিলো। তিনি নি: সন্তান ছিলেন। সে সময় হাবিল সরকার তাঁর পালিত পুত্র ছিলেন। চুনকি ফকির মারা যাবার পূর্বে হাবিল সরকারকে মোতায়াল্লি করে বাংলার ১২৯৫ সনে ৯৮ বিঘা ৭ কাঠা জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। তাঁর মূত্যুর পর গেদু সরকার মোতায়াল্লি হন। গেদু সরকার মূত্যুবরন করলে রিয়াজ সরকার মোতায়াল্লি হন। এরপর তাঁর পুত্র হাসমত আলী নিযুক্ত হন। বর্তমানে মোতায়াল্লি নিযুক্ত রয়েছেন তাঁরই ভাই আব্দুর রশিদ সরকার।

অভিযোগ রয়েছে নামে মাত্র মোতায়াল্লি নিযুক্ত রয়েছে তারা। মুলত তাদের বংশানুক্রমে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি মুলত ভঙ্গ হলে মুল ওয়ারিশগণ প্রাপ্ত হবে বিষয়টি বুঝতে পেরে ঐ চক্র আদালতে রেকর্ড সংশোধন মামলা ঝূলে দিয়েছে, সে মামলাটি চলমান রয়েছে।

অপরদিকে জানা যায়, চুনকি ফকিরের ওয়ারিশ হিসেবে দাবিদার তাঁর স্বজনরা যার মামলা নং ২৫/৮৭ আদালতে দারস্থ হলে আদালত ১৯৭২ সালের আইনে ঔ জমি গুলো সরকারী নীতিমালা অনুসারে ভূমিহীন পরিবারের মাঝে বন্টনের আদেশ দেন। পরবর্তীতে হাসমত আলী ৯৫ সালে একটি মামলা দায়ের করেন সে মামলায় আদালত মাননীয় যুগ্ন জর্জ আদালত বিবাদীর অনুকূলে মামলা ডিসমিস করেন। মামলায় বলা হয় চুনকি ফকিরের ওয়াকফ সম্পত্তিতে বাদীদের কোনো কার্যকারিতা নাই মর্মে বাদীকে রায় দেয়ার কোনো সুযোগ নাই।

হাসমত আলীর মূত্যুর পর তাঁর ভাই আব্দুর রশিদ সরকার রেকর্ড সংশোধনী মামলা করেন, সে মামলায় বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ে রিয়াজ উদ্দিন সরকার ২৫ শতাংশ জমি দান করে। রেকর্ড সংশোধন মামলায় ঐ দানকৃত জমির দাগ,খতিয়ান নং তুলে দেয়া হয়েছে। যা প্রতারনার আরেকটি উদাহরন। চুনকি ফকিরের ওয়ারিশ হিসেবে দাবিদার আবুল ফকির জানান, ওয়াকফ সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করার কোনো সুযোগ নাই। কারন ওয়াকফ স্টেট বাতিল হলে তা ওয়ারিশসুত্রে যাবে নতুবা সরকারী খাস জমি হিসেবে গণ্য হবে।

বিষয়টি বোঝার পর ঐ চক্র পুনরায় জমি গুলো ভোগ দখলের জন্য মসজিদের নামে রেকর্ড সংশোধন মামলা করেছেন। তিনি আরো বলেন, তারা ১ শ বছরে ও মসজিদের কোনো উন্নয়ন করেনি। মসজিদের উন্নয়নের কোটি কোটি টাকা আতœসাৎ করেছেন। মসজিদের নিজস্ব কোনে জায়গা নাই, তারা সম্পূর্ণ নিজেদের নামে রেকর্ড করেছে বিধায় এ গ্রামে দানকৃত জমিতে একাধিক মসজিদ হয়েছে। কারন শরিয়ত মোতাবেক এখানে নামাজ হবে না।

তিনি আরো বলেন, বাস্তবে এরা আতœসাৎকারী, ভূমিদস্য বটে। তারা মসজিদ তথা গ্রামবাসির সাথে প্রতারনা করেছে। তারা মোতায়াল্লি ছিলো নামে মাত্র। এলাকায় থাকতো না। বর্তমান মোতায়াল্লি নামধারী আব্দুর রশিদ সরকার বগুড়া জেলার নন্দ্রীগ্রামে বসবাস করেন। তিনি আরো বলেন, উক্ত মোতায়াল্লিগণ ওয়াকফ সম্পত্তির দু মৌজা আয়েশ এবং খোলাবাড়িয়ার অংশ দলিল মুলে বিক্রি ও করেছেন। অথচ ৪ টি মৌজাই পুনরায় দেখাচ্ছেন। তাদের প্রতারনার বিচার দাবি করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category