• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এড. আমজাদ হোসেন কখনও অর্থবিত্তের জন্য রাজনীতি করেননি-এড.ফরিদুল ইসলাম এড.আমজাদ হোসেনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী সফলের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন পূর্ব বড় ভেওলা মাহমুদিয়া হেফজখানা ও এতিমখানায় সাহায্যের আবেদন চকরিয়ায় দখলবাজরা কেটে নিল সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ মানবিক সাহায্যের আবেদন জাফর আলম এমপি ও জাহেদুল ইসলাম লিটু কে বিশাল সংবর্ধনা আধুনিক ও বাসযোগ্য চকরিয়া পৌরসভা রূপান্তরে কাজ করবো-মেয়র প্রার্থী এড. ফয়সাল চকরিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চকরিয়া বিএমচর ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর, চেয়ারম্যানসহ আহত ৪ চকরিয়া কোনাখালীতে পৈতৃক ভিটা জবর দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা

ফাসিয়াখালী উচিতার বিল মৌজার ১৫০ একর জমি বনবিভাগকে হস্তান্তরের নির্দেশ আদালতের

সংবাদদাতার নাম / ২৯৮ সময় দেখুন
আপডেট : রবিবার, ৩০ মে, ২০২১

চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার উচিতার বিল মৌজার ১৫০.৭৬একর জমি নিয়ে বন বিভাগের দায়েরকৃত সহকারি জজ আদালত,চকরিয়া কক্সবাজার-এ অপর ৩৬/৯৯ মামলায় বিগত ২০০০ সালে প্রচারিত আদেশের পরও ১নং খাস খতিয়ান থেকে বনবিভাগের ২নং বিএস খতিয়ানে অন্তভর্ূূক্ত না করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কর্তৃক উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত, কক্সবাজারে করা আপীল মামলা (নং অপর ১০/২০০০) খারিজ করে দিয়েছে আদালত। একদিকে পূর্বের ১নং খতিয়ান নিয়ে উচ্ছেদ আতংক, অন্যদিকে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করায় দু’পক্ষীয় জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে কোন ধরণের হয়রাণী না করতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকাদ্দমা (নং অপর ৩৮০/২০০৭) দায়ের করেন বনবিভাগের অনুমোদিত ৩২জন ভিলেজার।

প্রাপ্ত তথ্যে ও অভিযোগে জানাযায়, বিগত ১১জুন ১৯৩৫ ইং সনে ৪৮ ও ৪৯নং প্রজ্ঞাপন মূলে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ১৫০.৭৬ একর জমি বনবিভাগকে হস্তান্তর করে এবং ১৩জুলাই ১৯৩৫ ইং সনে তা কার্যকর করেন। কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ ও বনবিটের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উচিতারবিল মৌজার আর এস খতিয়ান নং ৬৫, এমআরআর খতিয়ান নং ১, আর এস দাগ নং ২০৬ ও ২৭৩, বিএস দাগ নং ১৬৮, ৪০৪, ৩৪৭, ৪৫৫, ৪৫২, ৪৫৪, ৩৯৭ এর ১৫০.৭৮ একর জমি স্থিত ও ভোগ দখলে রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে বিএস জরিপে উক্ত বনভূমির জমি ভূলবশত জেলা প্রশাসকের নামীয় ১নং খাসখতিয়ানভূক্ত হলে বিষয়টি দীর্ঘদিন পর বনবিভাগের নজরে আসে।

জানাগেছে, উল্লেখিত চকরিয়া উপজেলার উচিতার বিল মৌজার ১৫০.৭৬একর জমি পূণরায় ফেরত পেতে বনবিভাগ বাদী হয়ে সহকারি জজ আদালত, চকরিয়া কক্সবাজার-এ অপর ৩৬/৯৯ মামলা দায়ের করেন। এতে বিবাদী করা হয়; তহশীলদার চিরিংগা তহশীল অফিস, সহকারি কমিশনার (ভূমি) চকরিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কক্সবাজার ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক কক্সবাজারকে। আদালত মামলার পর্যালোচনা শেষে বিগত ২০০০ সালে ডিক্রী প্রচার করেন।

আদেশে বলা হয়েছে; অপর ৩৬/৯৯ মোকাদ্দমা বিবাদীগনের বিরুদ্ধে দোতরফাসূত্রে শুনানী করিয়া বিনাখরচে নালিশী তপশীলোক্ত জমি সংক্রান্তে বাদী স্বত্ত্ব রহিয়াছে মর্মে উচ্চারণের ডিক্রী প্রদান করা হইল। এতদ্বারা নালিশী তপশীলোক্ত জমি সংক্রান্তে প্রচারিত বি.এস খতিয়ান ভূল ও অনধিকারভাবের হয় এবং উক্ত সম্পত্তি বাবত বি.এস খতিয়ান বাদীর নামে সংশোধন পাইতে অধিকারী মর্মে উচ্চারণের ডিক্রী প্রদান করা হইল। চকরিয়ার সহকারি জজ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারি জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম বিগত ১৩ জুন’২০০০ সালে এই আদেশটি প্রদান করেন।
অপরদিকে, উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত,কক্সবাজারে আপীল (নং অপর ১০/২০০০) দায়ের করেন মামলার বিবাদী কক্সবাজার জেলা প্রশাসক।এতে বিবাদী করা হয় বিবাগীয় বন কর্মকর্তা,কক্সবাজারকে। কিন্তু আপীল মামলার ধার্য্য তারিখে পক্ষগন হাজিরা না থাকায় এবং কোন প্রকার তদবির করে নাই বিধায়, বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী মামলাটি বিগত ২এপ্রিল’০৩ইং তারিখ ২১নং আদেশে আপীল মামলাটি খারিজ করে দেন। ফলে সহকারি জজ আদালত, চকরিয়ার আদেশ বহাল রাখেন।
পরবর্তীতে আদেশপ্রাপ্ত জমিতে বনবিভাগের অনুমোদিত ৩২জন ভিলেজার বাদী হয়ে বনভূমি রক্ষণা-বেক্ষণ ও বসবাসের অনুমতিসহ স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মোকাদ্দমা (নং অপর ৩৮০/২০০৭) দায়ের করেন। মামলার আবেদনকারী ভিলেজাররা হলেন; আবদু শুক্কুর পিতা মৃত আশরাফ আলী, মোজাম্মেল হক পিতা মৃত হাজী রঞ্জু মিয়া, আনোয়ার হোসেন পিতা আবদু শুক্কুর, কবির আহমদ পিতা মৃত ফতেহ আলী, মোজাফ্ফর আহমদ পিতা মৃত মো: কালু, কবির আহমদ পিতা মৃত গনু মিয়া, মোক্তার আহমদ পিতা মৃত কালা মিয়া, জাফর আলম পিতা মৃত আবুল খাইর মাতব্বর, জাফর আলম পিতা মৃত কালু চৌকিদার, আবু ছালাম পিতা মৃত সৈয়দ আহমদ, আবুল কালাম পিতা মৃত হাজী আবুল হোসেন, মো: আবদুল কাদের পিতা মৃত মোহসেন আলী, রসিদ আহমদ পিতা মৃত আলী মিয়া, মো: নেজাম উদ্দিন পিতা আবদু শুক্কুর, ছাবের আহমদ পিতা আহমদ হোছন, আবদু শুক্কুর পিতা মোহসেন আলী, আলী আকবর পিতা আবদু শুক্কুর, শহর মুল্লুক পিতা মৃত হোছন আলী, মো: আজগর আলী পিতা মো: আবদু শুক্কুর, নবী হোসেন পিতা মৃত মোজাহের আহমদ, ইউসুফ আলী পিতা মৃত সৈয়দ আহমদ, রফিক আহমদ পিতা মৃত আলী মিয়া, মো: আইয়ুব পিতা আবদু শুক্কুর, আবদু সালাম পিতা মৃত কবির আহমদ, নুর মোহাম্মদ পিতা মরহুম মৌলভী আকবর আহমদ, মোজাফ্ফর আহমদ পিতা মৃত নুরুজ্জামান, নুরুল হাকিম পিতা মৃত কবির আহমদ, রহিম উদ্দিন পিতা মৃত নজির আহমদ, মোজাম্মেল হক পিতা মৃত লাল মিয়া, মো: কালু পিতা মৃত কাসিম আলী ও নুরুল ইসলাম পিতা মৃত সৈয়দ আহমদ।
এতে বিবাদী করা হয়েছে; তহশীলদার চিরিংগা তহশীল অফিস, সহকারি কমিশনার (ভূমি) চকরিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কক্সবাজার ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক কক্সবাজারকে। তারা মামলার আর্জিতে ১১জুন ১৯৩৫ ইং সনে ৪৮ ও ৪৯নং প্রজ্ঞাপন মূলে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে বনবিভাগকে হস্তান্তর করে এবং ১৩জুলাই ১৯৩৫ ইং সনে কার্যকরও হয়। এরপর থেকে বনবিভাগ গাছ-পালা রোপন করে ভোগ দখলে নেন। একইভাবে বাদীগনও বনজায়গীরদার হিসেবে ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে ভোগ ও দখল নিয়ে আসছেন। বাদীগন জানিয়েছেন, বিগত সময়ে ১নং খতিয়ান থেকে ২নং খতিয়ানে অর্ন্তভূক্তির আদালতের আদেশের পরও একটি কুচক্রি মহল ও দখলবাজচক্র সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বন্দোবস্তি নেওয়ার পায়তারা চালিয়ে যাওয়ায় স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকাদ্দমাটি দায়ের করেন। তারা এবিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের পক্ষে ফাঁসিয়াখালীর সাবেক ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, ভূল জরিপে ১৫০.৭৬ একর বনভূমি জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত হয়েগেছিল। উক্ত বনভূমি দীর্ঘকাল ধরে বনজায়গীরদাররা রক্ষণা-বেক্ষণসহ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন।

কক্সবাজার উত্তরের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মো: তহিদুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালত চকরিয়া এর অপর মামলা নং ৩৬/৯৯ এর আদেশের প্রেক্ষিতে তার কার্যালয়ের ৭৫৮নং স্মারকে উচিতারবিল মৌজার ১৫০.৭৬ একর জমি নিয়ে বিএস খতিয়ান সৃজনের লক্ষ্যে সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে গত ১৪মার্চ’২১ইং একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। যা বিজ্ঞ আদালতের আদেশে জমি হস্তান্তর পূর্বক ১নং খতিয়ান থেকে ২নং খতিয়ানে অর্ন্তভূক্ত করতে চুড়ান্তভাবে প্রচার রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ১নং খাস খতিয়ানের রেকর্ডভূক্ত জমি হওয়ায় সম্প্রতি উচিতার বিল মৌজায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে, সহকারি জজ আদালত চকরিয়া কর্তৃক ১নং খাস খতিয়ান থেকে ১৫০.৭৬ একর জমি বনবিভাগের নামে ২নং খতিয়ানে অন্তর্ভূক্ত করার আদেশের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেননা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category