আজ
|| ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
বগুড়ায় গতবারের চেয়েও ৩৮ হাজার বেশি পশু প্রস্তুত
প্রকাশের তারিখঃ ১৬ মে, ২০২৫
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বগুড়ায় গতবারের চেয়েও ৩৮ হাজারের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে কোরবানি ঈদের আর এক মাসও বাকি নেই। বিভিন্ন জায়গায় পশুর হাট ইজারাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। কোরবানি দাতারাও নিচ্ছেন পশু কেনার প্রস্ততি।
জানা গেছে, গত বছর সাত লাখ ৩৪ হাজার ৪১৫টি বিভিন্ন ধরনের (গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ) পশু প্রস্তুত করা হলেও আসন্ন ঈদের আযহার কোরাবনির জন্য সাত লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে পশুর খাবারের মূল্য ও লালনপালন খরচ বেশি হওয়ায় মূল্য গত বছরের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে এবার কোরবানির জন্য জেলার ১২ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুত করা হয়েছে সাত লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি বিভিন্ন ধরনের পশু যেখানে গত বছর ছিল সাত লাখ ৩৪ হাজার ৪১৫টি। গত বছরের তুলনায় এবার উদ্বৃত্ত রয়েছে ১২ হাজার ৪২৭টি পশু।
গত বছর জেলায় খামারির সংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার ৪৫৩ জন। এ বছর দু’হাজার ৬৯৩ জন বেড়ে হয়েছে ৫১ হাজার ১৪৬ জন। এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদাও বেড়েছে। গত ঈদে পুরো জেলায় পশুর চাহিদা ছিল সাত লাখ পাঁচ হাজার ২৬০টি। এবার চাহিদা ধরা হয়েছে, সাত লাখ নয় হাজার ১০টি যা গত বছরের চেয়ে তিন হাজার ৮৫০টি বেশি। তাই চাহিদার চেয়ে কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩৮ হাজার ৪৩২টি। মজুদ পশুর মধ্যে ষাঁড় এক লাখ ৯৩ হাজার ৫৯৯টি, বলদ গরু ৪২ হাজার ৭৪৬টি, গাভি ৮০ হাজার ৪২৬টিসহ মোট গরুর সংখ্যা তিন লাখ ১৬ হাজার ৭৭১টি। এছাড়াও মহিষ দু’হাজার ৩০৪টি, ছাগল তিন লাখ ৮০ হাজার ৬৩২টি ও ভেড়া ৪৭ হাজার ১৪০টি বলে জানায় প্রাণিসম্পদ অফিস।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর আগেও কোরবানির পশু ও সারা বছর খাওয়ার জন্য গোশতের চাহিদা মেটাতে পাশের দেশ ভারতের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। গত কয়েক বছর ভারত গরু আমদানি বন্ধ করার পর সরকারি ও বেসরকারি খাতে পশু উৎপাদন বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া হয়। এরপর থেকে দেশে উৎপাদিত পশু দিয়ে কুরবানি ও সারা বছর খাওয়ার গোশতের চাহিদা মিটছে। তবে আগের চেয়ে পশু ও গোশতের মূল্য অনেক বেশি। কিন্তু চামড়ার মূল্য অনেক কম।
খামারিরা জানায়, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জেলার খামারগুলোতে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে গো-খাদ্যের বাড়তি দামের কারণে তারা এসব পশুর প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।
তারা জানায়, প্রতি বছর ভুসি, ধানের কুড়া, খৈল, খড়, ঘাসসহ গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে প্রতি গরুতে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। গত বছর ১০০ কেজি ওজনের কোরবানির পশু প্রস্তুত করতে যে খরচ করতে হয়েছিল এবার তার সাতে অন্তত ৩০ শতাংশ যোগ করতে হবে। ফলে কোরবানির হাট-বাজারে পশুর দাম স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে বলে মনে করছেন খামারিরা।
বগুড়ার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: নাসরিন পারভিন বলেন, এ বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার পশু বেশি রয়েছে। তাই আশা করছি, এবার কোরবানির পশুর সঙ্কট হবে না। নজরদারির কারণে প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
Copyright © 2026 বিবিসি একাত্তর. All rights reserved.