• বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
সন্তানকে ফেরত পেয়ে পতেঙ্গা থানার ওসিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে “বাবার” চিঠি নাটোরের সিংড়ায় কৃষককে হত্যা মামলায় ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত কোটচাঁদপুরে আশার আলো ব্লাড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনু্ষ্ঠিত সিংড়ায় কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ তারুন্যের শক্তি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে মগনামায় শিক্ষাবিদ নুরুল আমিনের নতুন চমক ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী ছোটন পলাতক পেকুয়ায় কলেজ শিক্ষক হত্যাকারী দীর্ঘ ১১ বছরেও অধরা পেকুয়ায় বোটের মাঝি ছুরিকাহত, দুই রাউন্ড গুলি বর্ষণ সাংবাদিক আরিয়ান লেলিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের মানববন্ধন চকরিয়ায় প্রবাসীর জমি জবরদখলে নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা অর্থ আত্মসাতের ভিত্তিহীন অভিযোগ: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

চকরিয়ায় নিঃসন্তান বৃদ্ধের শেষ সম্বল দুই গরু চুরি

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: / ২৭৫ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এক চোখ হারানো নাতনীর চিকিৎসার স্বপ্ন ভেঙে কান্নায় নিঃস্ব দম্পতি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের হারবাং স্টেশনস্থ উত্তর নোনাছড়িপাড়া এলাকায় নিঃসন্তান ও অসহায় বৃদ্ধ আনোয়ার হোসেনের জীবনের শেষ অবলম্বন দুইটি গরু চুরি হয়ে যাওয়ার পর যেন থমকে গেছে একটি পরিবারের সমস্ত আশা।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন একটি ঘর থেকে নিঃশব্দে গরু দুটি নিয়ে যায় অজ্ঞাত চোরের দল। গরু নিয়ে যাচ্ছে এমন শব্দ হলে বাহিরে বের হয়ে গোয়ালঘর ফাঁকা দেখেই স্তব্ধ হয়ে যান আনোয়ার হোসেন। মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি ও তার স্ত্রী।

আনোয়ার হোসেনের নিজের কোনো সন্তান নেই। নিঃসন্তান জীবনের শূন্যতা পূরণ করতে তিনি একসময় একটি কন্যা শিশুকে দত্তক নিয়ে স্নেহ-মমতায় বড় করেন এবং সময়মতো তার বিয়ে দেন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন টেকেনি। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দত্তক মেয়ের স্বামী। তখন থেকেই দুঃখ আর সংগ্রাম নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে পরিবারটির।

স্বামীহারা সেই দত্তক কন্যা গার্মেন্টসে চাকরি করে কোনোমতে সংসার চালালেও তার দুইটি কন্যা সন্তানকে লালন-পালনের দায়িত্ব এসে পড়ে এই বৃদ্ধ দম্পতির কাঁধে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে তারা নাতনীদের আগলে রেখেছিলেন বুকভরা ভালোবাসায়।

কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়েনি। দুই নাতনীর একজন কিছুদিন আগে গুরুতর আঘাতে একটি চোখ নষ্ট হওয়ার পথে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চোখটি বাঁচাতে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি। সেই চিকিৎসার খরচ জোগাতেই আনোয়ার হোসেন তার জীবনের শেষ সম্বল দুইটি গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, গরু দুইটাই ছিল আমার শেষ ভরসা। নাতনীর চোখটা বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এখন আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।

পাশেই বসে থাকা তার স্ত্রী বুক ফাটা আর্তনাদে চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, আমরা তো কিছু চাইনি, শুধু বাচ্চাটার চোখটা বাঁচাতে চেয়েছিলাম।
এলাকাবাসী জানান, হারবাংসহ চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গরু উদ্ধারের পাশাপাশি এই নিঃস্ব পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বৃদ্ধ দম্পতির কান্না আজ শুধু তাদের একার নয়, এ যেন মানবতার কাছে এক নীরব আর্তনাদ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা