আজ
|| ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১০ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
চকরিয়ায় মসজিদের জন্য জমি বিক্রির নামে প্রতারণা, মুসল্লি ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ
প্রকাশের তারিখঃ ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৈরাগীরখিল ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) জামে মসজিদের উঠান সাদৃশ্য জায়গা মসজিদের নামে বিক্রয় নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বৈরাগীরখিল ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) জামে মসজিদের সামনের উঠান সংলগ্ন দুই পাশের জমি মসজিদের নামে ক্রয় করা। মাঝখানের তিন শতক জমির মালিক স্থানীয় মৃত নুরুচ্ছফার ছেলে মোহাম্মদ মুরাদ। জমি মসজিদের নামে বিক্রির কথা বলে ভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করায় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করে এবং যে কোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা।
আজ শুক্রবার বাদ জুমা মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, মসজিদের পার্শ্ববর্তী এলাকার মোহাম্মদ মুরাদ আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মসজিদের সামনের ১০ কড়া জমি বিক্রির কথা বললে, আমি স্থানীয় মরহুম সিরাজুল ইসলামের ছেলে দুবাইপ্রবাসী শাহেদ আলমকে বিষয়টি জানাই। তিনি উক্ত জমি মসজিদের নামে ক্রয় করতে সম্মত হন। মুরাদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলে প্রতি কড়া জমির দাম পঁয়ষট্টি হাজার টাকা নির্ধারণ হয়। তার কথা অনুযায়ী শাহেদ আলম দুবাই থেকে তিন লাখ টাকা তার ভাগিনা হারুনের কাছে পাঠান। পরে আমরা শুনতে পাই, উক্ত জমি মুরাদ মসজিদের নামে দেবেন না বলে জানান। এ ঘটনায় হারুনদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বি হাজী শের আলী, ফজল করিম, বশির আহমদ, জহিরুল ইসলাম, কমর উদ্দিনসহ মুসল্লিরা সাংবাদিকদের বলেন, ইতিপূর্বেও মুরাদ মসজিদের নামে জমি বিক্রির কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেন। উক্ত জমি আমরা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাটি দিয়ে ভরাট করি। পরে মুরাদ জমি না দিয়ে টাকা ফেরত দেন। এবারও সে জায়গাটি মসজিদের নামে না দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করতে চায়। মসজিদের উঠান কীভাবে অন্যত্র বিক্রি করবে? মসজিদের উঠানে অন্য কেউ এসে বাড়ি নির্মাণ করবে, তা এলাকাবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
এদিকে শাহেদ আলমের ভাগিনা হারুন বলেন, মুরাদের কথা অনুযায়ী আমার মামা শাহেদ আলম দুবাই থেকে তিন লাখ টাকা পাঠান। আমি উক্ত টাকা দিতে গেলে সে পূর্বের ন্যায় জমি দিতে গড়িমসি করে। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয় এবং সে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে মুরাদ, তার স্ত্রী ও ছেলে রিয়াদসহ ৫/৬ জন লোক আমাদের বাড়িতে এসে হামলা করে। এতে আমার বৃদ্ধ পিতাসহ পরিবারের চারজন আহত হন।
এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে মুরাদ, তার স্ত্রী ও তার ছেলের নামে চকরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করি।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, মসজিদের জমি ক্রয়সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Copyright © 2026 বিবিসি একাত্তর. All rights reserved.