আজ
|| ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শিলখালীতে খাল খনন পেকুয়ায় খননকৃত খালের পানিতে বাড়বে ফসল আবাদ
প্রকাশের তারিখঃ ২ মার্চ, ২০২৬
কক্সবাজারের পেকুয়ায় শিলখালী ইউনিয়নের চেপ্টামোড়ায় চলছে খাল খনন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিওএফপির) অর্থায়নে খাল খনন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে শুরু হয়েছে খাল খননের কাজ। খননকৃত খালের বদ্ধ মিঠা পানিতে বাড়বে সবজির আবাদ। এতে করে স্থানীয় ফসল উৎপাদন আরও অধিক গতিশীল হবে। ১ মার্চ রবিবার থেকে শিলখালীর চেপ্টামোড়ায় খাল খনন কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ড ইউপির সদস্য ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম এ কাজের আনুষ্ঠানিকতার যাত্রা শুরু করেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে শিলখালী ইউনিয়নের চেপ্টামোড়ায় প্রবাহমান খালটি মরাখালে পরিনত হয়। প্রায় ৫০ বছর আগে কৃষির আবাদ বাড়াতে এ খালটি সরকার কৃত্রিমভাবে খনন করে। তবে দীর্ঘ সময় এ খালে বাস্তবায়ন হয়নি পুনঃ সংস্কার কাজ। এতে করে প্রবাহমান এ খালের বিপুল অংশ মরা খালে রুপান্তর হয়। পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। খাল ও ফসলি জমি একাকার হয়ে পড়ে। জনস্বার্থে পানি চলাচলের এ খালের অধিকাংশ স্থানে শ্রেণি পরিবর্তন করে। ফলে বর্ষার সময় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে যায় কৃষকের ধান ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। এক সময় এ খালের বদ্ধ মিঠা পানি থেকে সেচ উৎস থেকে কৃষকরা বিলে ধান ও সবজির আবাদ করতেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে খালের গতি থেমে যাওয়ায় হ্রাস পেয়েছে কৃষকের ফসল আবাদ।
এ দিকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে পেকুয়া উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় শিলখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে চেপ্টামোড়া খালের প্রায় দেড় কিলোমিটারে খননকাজ চলমান রয়েছে। জারুলবুনিয়া সড়কের কালভার্ট থেকে সোজা পশ্চিমে বহমান। চেপ্টামোড়া হয়ে বদ্দার খালে আগায় গিয়ে মিশে যাবে। সেখান থেকে জনতা বাজার খালের বাক অংশে গিয়ে এর স্রোতধারা জনতা বাজার হয়ে হাজিরঘোনার খালে একত্রিত করবে এ খালের প্রবাহ।
এ দিকে এ খালটি খননের আওতায় আসায় স্থানীয় ভাবে উপকৃত হচ্ছেন শত শত কৃষক। জমিতে ফসল আবাদ বাড়বে মুন্সিমোড়া, চেপ্টামোড়া, দয়ারঘোনা, মিয়ারঘোনাসহ এ ইউনিয়নের আরও একাধিক এলাকা। ৩শ একর জমিতে বাড়বে ফসল উৎপাদন। কাজ তদারকি করছেন স্থানীয় রুকন উদ্দিন বলেন- এ খালটি পানি নিষ্কাশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে খালটি আরও গভীর ও প্রশস্ত করা প্রয়োজন। আমি নিজে উপস্থিত থেকে স্থানীয়দের নিয়ে এ কাজে সম্পৃক্ত হয়েছি। ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, ভরাট খালটি খনন ও পুনঃ উদ্ধারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এখানকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছিল। ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। অবশেষে আমার প্রচেষ্টায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছি। তারা প্রতিদিন একশো জনের শ্রমিক বরাদ্দ দিয়েছে। এ ভাবে ১২ দিন কাজ চলবে। তিনি আরও বলেন- খালের পশ্চিম অংশে একটি স্লুইচ গেইট প্রয়োজন। এটি সরকারী অর্থায়নে হতে হবে। যাতে করে মানুষেমানুষের পারাপার আরও সহজ হয়।
ইউপি সদস্য আহমদ ছবি বলেন - এ খালের পাশাপাশি আরও কিছু খাল ও জলধার আছে। সে গুলিও উদ্ধার করে খনন করার দৃষ্টি দিতে হবে। ইউপি সদস্য জাফর আলম বলেন এখানে এসে আমি উৎফুল্ল। মানুষ সরকারি খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষনের নিশ্চয়তার পক্ষে। কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
Copyright © 2026 বিবিসি একাত্তর. All rights reserved.