আজ
|| ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
চকরিয়ায় আলোচিত সিরাজ হত্যা কান্ডে জড়িত সোহেল গ্রেফতার; নিহতের পরিবারের নিরাপত্তার দাবি
প্রকাশের তারিখঃ ৩১ মার্চ, ২০২৬
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সওদাগর ঘোনা এলাকায় আলোচিত সিরাজ হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামি সোহেল আহমদকে বিক্ষুব্ধ জনগণ আটক করে গণধোলাইয়ের পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
চারটি হত্যাসহ ৮ মামলার আসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতা সোহেল আহমদকে আটকের ঘটনায় নিহত সিরাজের পরিবারকে মামলায় জড়ানোসহ বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে সোহেলের পরিবার ও মামলার অপরাপর আসামিরা। স্থানীয় ইদ্রিস আহমদ এর ছেলে সোহেল চিরিংগা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরকান আহমদ জানান, সিরাজ হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি সোহেলকে আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তার নামে হত্যা মামলা ছাড়াও একটি মামলায় আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে নিহত সিরাজের পরিবার ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে সওদাগর ঘোনা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় জনগণ।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত সিরাজের পিতা ওমর আলী বলেন, 'গতবছরের ২৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে বেগুন খেতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সওদাগর ঘোনা চারা বটতলী এলাকায় স্থানীয় জাহাঙ্গীর, ইউসুফ, কপিল ও সোহেলের নেতৃত্বে প্রকাশ্য গুলি করে ও পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যাকরে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করি। ওই মামলার এজাহার নামীয় চারটি হত্যাসহ ৮ মামলার আসামি সোহেলকে গত শনিবার এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া দিয়ে ঘেরাও করে। পরে চকরিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।' তিনি ছেলে হত্যাকারীর কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
নিহত সিরাজের স্ত্রী জান্নাতুল মোস্তফা মনি বলেন, 'আমার স্বামীসহ চার খুনের মামলার আসামি সোহেলের প্রতি পুরো সওদাগর ঘোনাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। সোহেলকে আটকের পর বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে, এতে সে কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় আমাদের পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানিসহ নানারকম হুমকিধামকি দিচ্ছে খুনিদের আত্মীয় স্বজনেরা।' স্বামী হারা স্ত্রী ও পিতাহারা তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভোগছেন বলে জানান।
স্থানীয়রা জানান, তিনমাসের মধ্যে দুই খুনের মূল হোতা সোহেলসহ অপরাপর খুনিরা বীরদর্পে ঘুরেবেড়ানোয় এলাকাবাসী আতংকে দিনাতিপাত করছে। যে কোন সময়ে আবারও নৃশংস ঘটনার আশংকা প্রকাশ করে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, সিরাজুল ইসলাম খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।
Copyright © 2026 বিবিসি একাত্তর. All rights reserved.