আজ
|| ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
চকরিয়ায় কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস লাপাত্তা! আমানত টাকা ফেরত চেয়ে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন
প্রকাশের তারিখঃ ৩১ মার্চ, ২০২৬
কক্সবাজারের চকরিয়ায় কর্ণফুলী ফাউন্ডেশন নামক এক মাল্টিপারপাস কোম্পানি গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। আমানতকৃত টাকা ফেরত ও পরিচালকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী সিঙ্গাপুর প্রবাসী প্রকৌশলী সামাদুর রহমান সুমন সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার সুমন বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমি প্রবাসে রয়েছি। আমার প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত তিলেতিলে সঞ্চয় করা ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ৫ দফায় চকরিয়ার কর্ণফুলী ফাউন্ডেশন (কেএমসিএসএল) এ ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করি। কোম্পানি টি আমাকে তাদের নিজেদের নামীয় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকের নামে ভিন্ন ভিন্ন তারিখের ৫টি চেক প্রদান করে। যার মধ্যে ৩ লাখ টাকার একটি চেক বিগত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়।
সুমন বলেন, কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনে আমার আপন বড় ভাই শাহাজাহান ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন বিধায়, আমি সরল বিশ্বাসে এত গুলো টাকা আমানত হিসেবে রাখি। এই টাকা গুলো সম্পুর্ন ভাবে আমার কষ্টার্জিত টাকা, এসব টাকা বিদেশ থেকে দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারকে অনেক গুলো র্যামিটেন্স দিয়েছি। যার ডকুমেন্টস সংরক্ষিত আছে।
প্রবাসী সুমন সংবাদিকদের বলেন, আমার মতো অপর আরেকজন ভুক্তভোগী তার টাকা ফেরত চেয়ে আদালতে একটি ফৌজদারি দরখাস্ত করেন। দুঃখজনক ভাবে ওই দরখাস্তে আমাকেও বিবাদী করা হয়েছে। ধারণা করছি আমার ভাই যেহেতু কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার ছিলেন, তাই হয়তো ওনি ভুলবশত আমার নামও এখানে জড়িয়ে দিয়েছে। আমি কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পরিষদের সাথে কোন ভাবেই জড়িত নই। আমার বিন্দু পরিমাণেও কোন সম্পৃক্ততা কেউ দেখাতে পারবে না। আমিও একজন ওনার মতো ভুক্তভোগী। আমি ইতোমধ্যে কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের পরিচালকদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।
এছাড়াও আরও কয়েকজন গ্রাহক আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এধরণের অপপ্রচার মিথ্যা ও উদ্যেশ্য প্রনোদিত। আমি তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি প্রশাসন ও জনসাধারণ কে সবিনয় অনুরোধ করছি।
তাঁর প্রবাস জীবনে কষ্টার্জিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নিতে চকরিয়া-পেকুয়ার আপামর জনতার আস্থাভাজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ও চকরিয়া থানার ওসি'র কাছে সবিনয়ে অনুরোধ জানান প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার সামাদুর রহমান সুমন।
এদিকে সোমবার দুপুরে চকরিয়ায় মহাসড়কে কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের গ্রাহকদের কোটি-কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ায়, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের গ্রেফতার, টাকা উদ্ধারের দাবিতে অফিস ঘেরাও, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন ভুক্তভোগী শত-শত নারীপুরুষ।##
Copyright © 2026 বিবিসি একাত্তর. All rights reserved.