পেকুয়ায় কলেজ শিক্ষক এস,এম ফরহাদ উদ্দিন হত্যাকান্ডে জড়িত মূল আসামী দীর্ঘ ১১ বছরে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নিকট অধরা রয়েছে। পরিবারে হতাশা ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা আবদুল হামিদ সিকদার পাড়ার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক মাষ্টার ইউনুছের সুযোগ্য সন্তান কলেজ শিক্ষক এস,এম ফরহাদ উদ্দিন বিগত ২০১৫ সালের ৬ মে রাত ৯ টার দিকে বাড়ির পাশে ছালেহ জঙ্গী প্রকাশ ছোটনের গুলিতে নিহত হন। বাদীর বাড়ির উপরে বৈদ্যুতিক লাইনের বিষয় নিয়ে মাষ্টার ইউনুছ ও ছালেহ জঙ্গী ছোটনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে বাড়ির পাশের মৃত মৌলভী নুর আহমদ ওসমা গণির পুত্র ছালেহ জঙ্গী ছোটন এর সাথে মাস্টার ইউনুছের বড় ছেলে কলেজ শিক্ষক এস.এম ফরহাদ উদ্দিনের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় ধারালো কিরিচ দিয়ে ছালেহ জঙ্গী ছোটন কোপ মারে। পরে বাড়ি থেকে কাটা বন্দুক নিয়ে এসে ফরহাদকে গুলি করে। গুলিটি পিঠে ছুটলে বুক ভেদ করে বাহির হয়ে যায়। এ সময় কিরিচের কোপে তার ছোট বোন নাফিছা নুর দিনা গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় কলেজ শিক্ষক ফরহাদের পিতা মাষ্টার ইউনুছ বাদী হয়ে ছালেহ জঙ্গী ছোটনকে প্রধান আসামীসহ ৬ জনকে আসামী করে পেকুয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়। যার মামলা নং-৮, জিআর ৮৭/২০২৫ ইংরেজী। ওই মামলাটি কক্সবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল মামুন পেকুয়া থানার তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আদালতে দীর্ঘ শুনানী শেষে প্রধান আসামী ছালেহ জঙ্গী ছোটনকে ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদন্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা প্রকাশ লিপিকে ৩০২/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়। তাছাড়া ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। অপরাপর অন্যান্য ৫ জন আসামীকে বিচারক বেখসুর খালাস ঈস্খদান করে। এ দিকে বাদী অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক মাষ্টার মো: ইউনুছ জানান, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দীর্ঘ ১১ বছর। এখনো মূল আসামী ছালেহ জঙ্গী ছোটন গ্রেপ্তার হয়নি। তিনি বিচারকের রায়ে সন্তুষ্ট কিন্তু আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি খুবই চিন্তিত ও হতাশ রয়েছেন। তিনি ছেলের জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমি চাই আমার ছেলে হত্যাকারীর মূল আসামী ছালেহ জঙ্গীর ফাঁসি। আমি মৃত্যুর আগে আমার ছেলের বিচারটা আমি দুনিয়ায় দেখে মৃত্যুবরণ করতে চাই। আমি আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট আমার ছেলের হত্যাকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য দাবী জানান। পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম জানান, ওই মামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামী দীর্ঘদিন পলাতক রয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।