পেকুয়ায় আবদুল অদুদ নামের এক মুক্তিযোদ্ধা সনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মোহাম্মদ শরীফ বাদী হয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ রুজু করেন।
অভিযোগে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল অদুদ টইটং ইউনিয়নের হিরাবুনিয়া গ্রামের মৃত বাচা মিয়ার ছেলে। পেশায় জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ শ্রমিকলীগ কক্সবাজার জেলার সহসভাপতি পদে আসীন রয়েছে। তিনি গত ২৫-০৪-২২ ইং তারিখে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ২৯৪ নং গেজেটভূক্ত হন। প্রকৃতপক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তির ২০০৮ সালের ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রে অভিযুক্তের বয়স উল্লেখ রয়েছে ২০-০৮-১৯৫৮ ইং। উক্ত জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে সরকারী চাকুরী করেন। অভিযুক্তের ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিযুক্তের বয়স ২০-০৮-১৯৫৭ইং। অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্মতারিখ ১৯৫৮ হলে ১৯৭১ সালে অভিযুক্তের বয়স ১৩ বছরের কম হওয়ায় জালিয়তির মাধ্যমে বয়স সংশোধন করে ১৯৫৭ করেনএবং জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ সংশোধনের সময় জালিয়তি এস.এস,সি প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করেন। উল্লেখিত বয়স সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রে ছনুয়া স্কুলের ১৯৭৪ ইং সনের এসএসসি সনদের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করলেও উক্ত স্কুলের রেজিস্টারে ১৯৭৪ সনের অভিযুক্ত ব্যক্তির এসএসসি পাশের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা গেজেটভূক্ত হওয়ায় এলাকায় জনগনের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অনেকে জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল অদুদ কোনদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। তিনি মোটা অংকের টাকা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে এডভোকেট ইমরান সাইফুল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল অদুদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে শুনানী হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঈনুল হোসেন চৌধুরী জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল অদুদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে শুনানী হয়েছে। এ সনদ বাতিল করার ক্ষমতা আমার নেই। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নিতে পারে।